“এই মাটিতে জন্ম, তবু নোটিশ! কোচবিহারে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক”
কোচবিহার: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত করে তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারের ঘুঘুমারির কদমতলায় জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—বিজেপিকে জেতালে সাধারণ মানুষ নিজেদের মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত হবেন।
সভা মঞ্চ থেকে অভিষেকের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিল অসমের ‘ফরেন ট্রাইব্যুনাল’ ও ‘এসআইআর’ ইস্যু। তাঁর অভিযোগ, কোচবিহারের মানুষকে বিজেপি শুধু বঞ্চনাই করেনি, বরং নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপমানের রাজনীতিও করছে। তিনি বলেন, “যাঁদের জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং কর্ম এই বাংলার মাটিতে, তাঁদেরই অসমের ট্রাইব্যুনালের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কোন সাহসে বাংলার মানুষকে তাড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়?”
এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘অপরিকল্পিত ও অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, এই ব্যবস্থার জেরে রাজ্যে আগেও বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যাঁরা শুনানির নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব রক্ষায় তৃণমূল সর্বাত্মক লড়াই করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একহাত নিয়ে অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪—এই এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা কোচবিহারে এসে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নারায়ণী ব্যাটালিয়ন, চিলা রায়ের নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পঞ্চানন বর্মার লাইব্রেরি, মদনমোহন মন্দিরের আন্তর্জাতিকীকরণ—সব প্রতিশ্রুতিই আজ ‘বিশ বাঁও জলে’, বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কোচবিহার রেল স্টেশনকে স্পোর্টস হাব করা ও বিমানবন্দর পরিষেবা চালু নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল নেতা।
বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে অভিষেক জানান, কোচবিহারের ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এখন ৬টিই বিজেপির দখলে। এই পরিস্থিতি বদলানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপিকে যত জেতাবেন, অধিকার থেকে তত বঞ্চিত হবেন।” তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন দিল্লি বা মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতারা সাধারণ মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পেত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের সবকটি আসনে (৯-০) তৃণমূলকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন—প্রয়োজনে আবার দিল্লি গিয়ে লড়াই হবে, তবে বাংলার মানুষের অধিকার কোনওভাবেই কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।