বাংলার মসনদে কে ? বাংলার মসনদে কে ?
ইউবিএন:ভোট শেষ, মাইক থেমেছে, দেওয়াল লিখন মুছে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এখনো বজ্রগর্ভ উত্তেজনা। ৪ মে ইভিএম খুললেই বেরোবে জনতার চূড়ান্ত রায়। তার আগেই একের পর এক বুথফেরত সমীক্ষা রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে ছড়িয়েছে তুমুল জল্পনা। কোথাও বিজেপির উত্থানের ইঙ্গিত, কোথাও তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের আভাস। ফলে একটাই প্রশ্ন—বাংলার মসনদে এবার কে?
বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত সমীক্ষায় স্পষ্ট, লড়াই এবার কাঁটায় কাঁটায়। MATRIZE বিজেপিকে ১৪৬ থেকে ১৬১ আসন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছে রেখেছে। একই সমীক্ষায় তৃণমূলকে দেওয়া হয়েছে ১২৫ থেকে ১৪০ আসন। PMARQ আরও বড় ব্যবধানে বিজেপিকে ১৫০ থেকে ১৭৫ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে Peoples Pulse সমীক্ষায় উল্টো ছবি। সেখানে তৃণমূলকে ১১৭ থেকে ১৮৭ আসন দিয়ে ফের সরকার গঠনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। বিজেপিকে দেওয়া হয়েছে ৯৫ থেকে ১১০ আসন। Chanaky Strategies-ও বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখলেও তৃণমূলকে লড়াইয়ের বাইরে ফেলেনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপরীতমুখী সমীক্ষাগুলিই প্রমাণ করছে বাংলায় ভোটের নীচে নীরব স্রোত কাজ করেছে। উত্তরবঙ্গ, সীমান্ত এলাকা, শহরাঞ্চলে বিজেপি বাড়তি জমি পেতে পারে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুরে পদ্ম শিবিরের আশাবাদ বাড়ছে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ, গ্রামীণ এলাকা, মহিলা ভোটার ও সরকারি প্রকল্পভিত্তিক সুবিধাভোগীদের মধ্যে তৃণমূল এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরে ঘাসফুলের সংগঠন এখনও বড় ফ্যাক্টর।
তবে অভিজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলার ভোটে এক্সিট পোল মানেই শেষ কথা নয়। অতীতেও বহুবার সমীক্ষা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভোটাররা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের মত গোপন রাখেন, আবার স্থানীয় ইস্যুতে অনেক আসনের ফল উল্টেও যায়।
সব মিলিয়ে এখনকার বার্তা একটাই—বাংলায় লড়াই এখনও খোলা। বিজেপি কি ইতিহাস গড়বে, নাকি তৃণমূল ফের মমতার হাতেই ক্ষমতা রাখবে—তার উত্তর লুকিয়ে আছে ৪ মে-র গণনার সকালে। বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।