দ্বৈত ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা, ধসে পড়ল ভবন; হাজারো প্রাণহানির আশঙ্কা

কারাকাস, ২৬ জুন : মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। প্রথমে ৭.২ মাত্রার এবং তার কিছুক্ষণ পরেই আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লক্ষেরও বেশি প্রাণহানির সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি ভূমিধস ও মাটির তরলীকরণ (Liquefaction)-এর ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, রাজধানী কারাকাসে একাধিক ভবন ভেঙে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও বেশ কিছু বহুতল ভবনের ফাটল ধরা, আংশিক ধসে পড়া কিংবা সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রে কারাকাসের একটি ব্যাংক ভবনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ইয়ারাকুই (Yaracuy) প্রদেশে প্রায় ২১.৯ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে (Yumare) শহরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে এবং মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
কারাকাসের লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার জানান, “জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প কখনও অনুভব করিনি। জানালাগুলো কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি আমার উপর ভেঙে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে অবশেষে নিচে রাস্তায় নেমে আসেন।
ভূমিকম্পের অভিঘাত শুধু ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানকার কিছু ভবন খালি করে দেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
কাবেলো জানান, ত্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্ডা, কারাকাস ও লা গুয়াইরা-সহ একাধিক রাজ্যে কম্পনের প্রভাব পড়েছে। রাজধানীর লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে কারাকাসে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল। এবারও সেই একই এলাকাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, দেশের বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, “এই দুঃসময়ে প্রতিটি ভেনেজুয়েলীয় পরিবারের পাশে আমার হৃদয়, আমার প্রার্থনা এবং অসীম সহমর্মিতা রয়েছে।”
উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

Popular posts from this blog

গণেশের পৈতে চুরির চেষ্টায় চাঞ্চল্য নিশিগঞ্জে

নিশিগঞ্জে কলেজকে সরকার পোষিত করতে গণকনভেনশন

জোড়া খুন পাডুবিতে,তদন্তে পুলিশ